হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে টোল আরোপের আইন করছে ইরান
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান
গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে চাওয়া জাহাজগুলোর ওপর ফি বা টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট এ সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন প্রণয়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি।
ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, এক অজ্ঞাতনামা আইনপ্রণেতার বরাতে জানা যায়—আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত হতে পারে। পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে বিশ্বের বাকি অংশের সংযোগে এই প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের ওপর হামলা শুরুর প্রায় এক মাস পর থেকে এই সংকীর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। ফলে এটি চলমান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ সময়ে খুব অল্পসংখ্যক জাহাজ চলাচল করতে পেরেছে, যার বেশিরভাগই ইরান বা চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
এছাড়া কিছু জাহাজ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি নিয়ে পার হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে চালু থাকা টোল আদায়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে। শিপিং খাতের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কিছু জাহাজের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দাবি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে জাহাজের ক্রু, পণ্য ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। যুদ্ধের কারণে কিছু শোধনাগারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
