ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কি ইউরোপে পৌঁছতে পারে
দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র: ইউরোপে ছড়াতে পারে সংঘাত?
ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে অবস্থিত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটির দিকে ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম এত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নতি আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ বদলে দিতে পারে। চাগোস দ্বীপপুঞ্জ, যেখানে দিয়েগো গার্সিয়া অবস্থিত, তা ইরান থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেছেন, ইরান চার হাজার কিলোমিটার পাল্লার দুটি ধাপের আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।
ইসরাইলি সামরিক সূত্রের দাবি, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের অনেক রাজধানী শহর—বার্লিন, প্যারিস ও রোম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের এক মন্ত্রী বলেছেন, ইরানের এমন সক্ষমতার দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাজ্যের সাবেক জয়েন্ট ফোর্স কমান্ড প্রধান জেনারেল রিচার্ড ব্যারনস জানিয়েছেন, এই ঘটনা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন তৈরি করেছে।
এদিকে ন্যাটোর সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল স্যার রিচার্ড শিরেফ মনে করেন, সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
