সীমান্তে শূন্য রেখায় থাকা সেই বৃদ্ধকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর মাধ্যমে স্বজনরা তার সন্ধান পান।

সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার অভিযান

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলারের সামনে শূন্যরেখা থেকে বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে উদ্ধার করা হয়। পরে বিজিবি তাকে বকশীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। পুলিশ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় ওই বৃদ্ধকে অবস্থান করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি নজরে আনেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন এবং নিজের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দিতে পারছিলেন না। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

ভিডিও দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন স্বজনরা

পুলিশ জানিয়েছে, ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চাঁন্দলাই গ্রামে। প্রায় দুই মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

বুধবার গণমাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় তাকে উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন।

পরিবারের সদস্যদের স্বস্তি

বৃদ্ধের ছোট ভাই ভবানি বর্মন জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সবাই তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। সীমান্তে আটকে থাকার খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত যোগাযোগ করেন।

তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করা বিজিবি, পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কীভাবে সীমান্তে পৌঁছালেন, তা অজানা

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন জানান, পরিবারের সদস্যরা পরিচয় নিশ্চিত করার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃদ্ধকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে কীভাবে তিনি রাজশাহী থেকে জামালপুরের সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালেন, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরাও কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

মানবিক সহায়তার উদাহরণ

নিখোঁজ একজন মানুষকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে মানসিকভাবে অসুস্থ বা বিভ্রান্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও সহায়তা করার ক্ষেত্রে পরিবার, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে দ্রুত তথ্য প্রচার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সময় এমন মানবিক সংকট সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Source attribution: Source: Based on reporting from ইনডিপেনডেন্ট ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

Next News Previous News