নেতানিয়াহু যেকারণে ট্রাম্পের ‘ইরান চুক্তি’ ভেঙে দিতে চান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই ধরনের কোনো ‘ইরান চুক্তি’ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

কূটনৈতিক সমঝোতা ও ইসরায়েলের উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়, তবে তা ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার যে কৌশল ইসরায়েল অনুসরণ করে আসছে, সম্ভাব্য চুক্তি তা দুর্বল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সামি আল-আরিয়ান বলেছেন, নেতানিয়াহুর দৃষ্টিভঙ্গি এমন যে ইরানকে আঞ্চলিকভাবে দুর্বল না করা পর্যন্ত কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা সম্ভব নয় বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজা, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনকে ঘিরে চলমান সংঘাতকে আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখা কঠিন। বরং এগুলো বৃহত্তর আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ের অংশ।

ইসরায়েল ও ইরান উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন মিত্র গোষ্ঠীকে ব্যবহার করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতাও এ সমীকরণকে প্রভাবিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে মার্কিন জনগণের অনীহা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। এতে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে অর্থনৈতিক ব্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক ঝুঁকি

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এই রুট দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ হওয়ায় এখানে কোনো অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়ায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

সম্ভাব্য সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কিছু কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত সীমিত যুদ্ধবিরতি বা আংশিক সমঝোতার আলোচনা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে বিরোধ থেকেই যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে মধ্যপ্রাচ্য একটি দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার মধ্যেই অবস্থান করছে।

উপসংহার

নেতানিয়াহুর অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্ভাবনা—এই দুইয়ের টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধান না এলে অঞ্চলটি আরও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে যেতে পারে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন

Next News Previous News