মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ দেশের ইতিহাসে বিরল: সর্ব মিত্র

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান-এর পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরল ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, দেশের রাজনীতিতে সাধারণত ক্ষমতার পদ ধরে রাখার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। সেই বাস্তবতায় একজন মন্ত্রীর স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

‘পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন’

ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমা মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আচরণের প্রশংসা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীপেন দেওয়ান ছিলেন ভদ্র, সংযত এবং স্বল্পভাষী একজন রাজনীতিবিদ, যিনি রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেও প্রতিপক্ষের প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্য এড়িয়ে চলতেন।

তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রীকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পদত্যাগের পেছনে অন্য কারণ আছে কি?

সর্ব মিত্র চাকমা তার পোস্টে পদত্যাগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হলেও ইঙ্গিত দেন যে এর পেছনে অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ও থাকতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থে দীপেন দেওয়ানের দায়িত্বে বহাল থাকা প্রয়োজন ছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশের নেতৃত্ব চাইলে দীপেন দেওয়ান ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে আগ্রহী হতে পারেন।

সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছিলেন

দীপেন দেওয়ান চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তাই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সরকারি সূত্রে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দীপেন দেওয়ান তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সোমবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। সেই কারণে দীপেন দেওয়ানের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকতে পারে।

Source: Based on reporting from contemporary Bangladeshi media reports and statements published on Facebook by Sarbo Mitra Chakma.

Next News Previous News