৭ জুন রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান আগামী ৭ থেকে ৯ জুন রাশিয়া সফর করবেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সফরের বিষয়টি জানিয়ে বলেছে, বৈশ্বিক ইস্যুতে সহযোগিতা জোরদারে তারা নবনির্বাচিত সভাপতির সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

রাশিয়ার বার্তায় যা বলা হয়েছে

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে ড. খলিলুর রহমানের অগ্রাধিকারগুলোকে মস্কো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়ে তার অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া।

মস্কোর মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় সমন্বয়মূলক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সভাপতির উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

সফরের গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সফরগুলো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, এই পদটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

ড. খলিলুর রহমানের রাশিয়া সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্ব রাজনীতি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে এই সফরে জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশ নিয়মিত আলোচনা করে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের নেতৃত্বের সঙ্গে রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী দেশের যোগাযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয় তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানও আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

ঢাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো নেই

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সফরের তথ্য প্রকাশ করলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি, বৈঠক ও আলোচনার বিষয়গুলো পরবর্তীতে জানানো হতে পারে।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, সফরে জাতিসংঘের কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক শান্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসংহার

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন রাশিয়া সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক উদ্যোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে এই ধরনের আলোচনা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি করতে পারে।

Source: Based on reporting from Talash BD and Russian Foreign Ministry statements

Next News Previous News