এমপিওভুক্তি ও বেতন ছাড়ের দাবিতে আমরণ অনশনে ইবতেদাযয়ি শিক্ষকেরা
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিওভুক্তি এবং বকেয়া বেতন-ভাতা ছাড়ের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষকরা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো কাফনের কাপড় পরে কর্মসূচি পালন করছেন তারা। দীর্ঘদিন অবস্থান কর্মসূচির পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
দাবি পূরণ না হওয়ায় অনশনে শিক্ষকরা
আন্দোলনকারীরা জানান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর এমপিও বাস্তবায়নের দাবিতে তারা গত ২১ মে থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় রোববার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা।
অনশন কর্মসূচিতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শিক্ষক নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল হান্নান হোসেনের নেতৃত্বে কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
প্রায় ১০ মাসেও হয়নি এমপিওভুক্তি
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ৩ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নিয়ম মেনে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ১০ মাস পার হয়ে গেলেও কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করা হয়নি।
শিক্ষকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা পাঠদান চালিয়ে গেলেও অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এমপিও সুবিধা না থাকায় শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ
শিক্ষকদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ছাড় করা হয়নি।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দ্রুত বেতন ছাড় এবং এমপিও কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থায় অবদানের স্বীকৃতি চান শিক্ষকরা
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, ইবতেদায়ি শিক্ষা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাতে কর্মরত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন।
তাদের মতে, এমপিওভুক্তি হলে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক স্থিতিশীলতা পাবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
দাবি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আশা করছেন তারা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন
