ঝড়ে পড়ে যাওয়ার পর ‘উঠে দাঁড়ানো’ সেই গাছ কেটে ফেললো প্রশাসন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া আলোচিত গাছটি কেটে সরিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গাছটিকে ঘিরে কুসংস্কার ছড়ানো এবং সেখানে মাজার তৈরির চেষ্টা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ঘটনাটি কীভাবে আলোচনায় আসে
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সীবাড়ির পুকুরপাড়ে থাকা একটি গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়ে যায়। পরে গাছটির ডালপালা ও উপরের অংশ কেটে ফেলা হয়।
এরপর কয়েক দিন আগে স্থানীয়রা দেখতে পান, প্রায় ১৫ ফুটের অবশিষ্ট কাণ্ডটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘটনাটি দেখতে সেখানে ভিড় করতে শুরু করে।
কুসংস্কার ঠেকাতে প্রশাসনের উদ্যোগ
গাছটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। কিছু মানুষ গাছটির নিচের অংশ লাল কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দেয় এবং সেখানে মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালাতে শুরু করে। একপর্যায়ে জায়গাটিকে মাজারের মতো সাজানোর চেষ্টাও করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ঘটনায় সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে বলেন, প্রাকৃতিক একটি ঘটনাকে অলৌকিক হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী বলছে
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের মতে, গাছটির সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক কারণ থাকতে পারে। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গাছের বড় অংশ কেটে ফেলায় এর ওজন ও ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে।
এ ছাড়া মাটির স্থিতিস্থাপকতা, শিকড়ের টান এবং গাছের ভেতরের প্রাকৃতিক চাপের কারণে কাণ্ডটি আবার কিছুটা সোজা অবস্থানে ফিরে আসতে পারে। এটিকে অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেও তারা জানান।
ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সরিয়ে ফেলা হয়
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি কেটে ফেলা হয়।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানান, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হেলে ছিল। গাছের মালিকের সঙ্গে আলোচনা ও অনুমতি নিয়েই এটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
গাছ বিক্রির অর্থ অনুদানের সিদ্ধান্ত
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গাছ বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ কোনো মসজিদ বা মাদরাসায় অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মালিক।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় সেখানে কোনো ধরনের ভুল বিশ্বাস বা কুসংস্কার স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমেছে।
উপসংহার
আখাউড়ার এই ঘটনা দেখিয়েছে, কোনো অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা সহজেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। তবে এমন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Source: Based on reporting from Somoy News
