বেনজীরকে দেশে ফেরানো নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে সরকারের কাছে চিঠি দেবে ট্রাইব্যুনাল

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সরকারের কাছে চিঠি, রিমান্ডে নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাইব্যুনালের সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া তিনটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইতোমধ্যে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো (এনসিবি) ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্তাধীন অন্তত ১০টি মামলায় বেনজীর আহমেদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শাপলা চত্বরের ঘটনাসংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে কমিশনার হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আরও ছয় থেকে সাতটি মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব মামলার পাশাপাশি গুম, খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগেও তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তাধীন। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের বাইরে আর্থিক অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এসব অভিযোগ ও মামলার প্রেক্ষাপটে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বেনজীর আহমেদ দেশে ফিরলে চলমান মামলাগুলোতে তাকে আদালতের মুখোমুখি করা হবে। পাশাপাশি তদন্তাধীন মামলাগুলোর স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও করা হবে।

তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের কাছ থেকে বিভিন্ন ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে কথিত ক্রসফায়ার, গুম এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Next News Previous News