আমি ক্ষমতা চাই না, কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না: শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সাম্প্রতিক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জুলাই–আগস্টের আন্দোলন এবং ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন। শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার এবং তার রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
ক্ষমতা নয়, দায়িত্বকেই বড় করে দেখছেন শেখ হাসিনা
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রতি কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। তবে দেশের জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ তাকে সবসময় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তার ভাষায়, জনগণের কল্যাণে কাজ করাই তার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং ভবিষ্যতেও সেই দায়িত্ববোধ থেকে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নিতে চান না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিয়ে ব্যাখ্যা
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন ত্যাগের মুহূর্তকে অত্যন্ত আকস্মিক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, সে সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি মূলত টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তবে পরিস্থিতির কারণে দেশের বাইরে চলে যেতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে একটি অপ্রত্যাশিত ও জটিল সময় হিসেবে বর্ণনা করেন।
আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে জুলাই–আগস্ট মাসের আন্দোলন নিয়েও তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা দাবি করেন, এটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না বরং এর পেছনে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সহিংস ঘটনার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা হয়েছিল বলে তার ধারণা, যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা এবং সরকারি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক তদন্ত ও রায় নিয়ে প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় থাকলে কোনো তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে বিচারিক রূপ দেওয়া হলে তা ন্যায়বিচারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব বক্তব্য সাক্ষাৎকারে তার ব্যক্তিগত অবস্থান হিসেবে উঠে এসেছে।
রাজনীতি থেকে সরে না যাওয়ার ইঙ্গিত
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে শেখ হাসিনা সরাসরি অবসরের সম্ভাবনা নাকচ না করলেও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দেননি। তিনি বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করার দায়বদ্ধতা থেকে তিনি নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নিতে চান না।
তার মতে, রাজনৈতিক পথ সবসময় সহজ নয়, তবে তিনি বিশ্বাস করেন সত্য ও জনগণের কল্যাণ শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শেষ কথা
শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। তার মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
Source: Based on reporting from The Daily Ittefaq (Digital Desk)
