জেলে বাবার জন্য খাবার নিয়ে গিয়ে মেঘনায় তলিয়ে গেল শিশু
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় মেঘনা নদীতে শিশু নিখোঁজ হওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। জেলে বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর পাড়ে গিয়ে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে তলিয়ে যায় তামিম (শিশু), যাকে স্থানীয়রা এখনো উদ্ধার করতে পারেননি। এই ঘটনা এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
খাবার নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তেই ঘটে দুর্ঘটনা
মঙ্গলবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলে শাহাদাত হোসেন প্রতিদিনের মতোই মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। দুপুরের দিকে তার ছেলে তামিম বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর তীরে আসে।
খাবার খাওয়ার পর বাবা নদীর পাড়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, আর শিশু তামিম তার এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে নদীর ধারে খেলছিল। খেলতে খেলতেই অসাবধানতাবশত সে হঠাৎ মেঘনা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে শিশুটি স্রোতের টানে তলিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দ্রুত চেষ্টা, কিন্তু কোনো সন্ধান মেলেনি
ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে সঙ্গে থাকা অন্য শিশু পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজি চালায়। তবে তামিমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এলাকার লোকজন জানান, দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই নদীর স্রোত তীব্র হয়ে ওঠে, যার কারণে শিশুটিকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
উদ্ধার কাজে বিলম্ব, ক্ষোভ স্থানীয়দের
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে স্থানীয়ভাবে ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মন্নান রানা বলেন, “একটি শিশু নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার পরও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি, এটি খুবই দুঃখজনক।”
পরিবারে শোকের ছায়া
নিখোঁজ তামিম তার বাবা শাহাদাত হোসেনের একমাত্র সন্তান বলে জানা গেছে। সন্তানের খোঁজ না পেয়ে বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রতিবেশীরা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে প্রতি মুহূর্তে।
প্রশাসনের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, হাতিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। কোস্ট গার্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি আরও জানান, বুধবার সকালে ভোলা থেকে ডুবুরি দল এসে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু করবে।
শেষ কথা
একটি সাধারণ দিনের মতো শুরু হলেও জেলে পরিবারের জন্য তা পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। মেঘনা নদীর এই দুর্ঘটনা আবারও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
Source: Based on reporting from Prothom Alo (Chattogram Desk)
