ধর্ষণে অভিযুক্ত’ শিবির নেতা আত্মগোপনে গিয়ে সাজালেন অপহরণের নাটক
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন জিসান। পরে বিয়ের দাবি জানালে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে বিয়ের দাবি তোলার পর জিসান শুক্রবার বিয়েতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সময়ে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যেখানে তাকে নিখোঁজ বলে উল্লেখ করা হয়।
পরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়ার পর জিসান দাবি করেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ এ দাবির সত্যতা পায়নি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপহরণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। বরং প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জিসান আত্মগোপনে ছিলেন। ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্টসহ একাধিক অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।
বর্তমানে জিসান মিয়া প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সামছুল আলম জানিয়েছেন, মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি সংগঠনটির কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতিও ছিলেন।
