কক্সবাজারে যাত্রীবাহী দুই বাসের সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৫০
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চকরিয়ার মেদাকচ্ছপিয়া ঢালায় দুর্ঘটনা
সোমবার (৮ জুন) দুপুর সোয়া ২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেদাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মালুমঘাট, চকরিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত শিশু ও আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
যেভাবে ঘটল সংঘর্ষ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, কক্সবাজারমুখী ‘এভারগ্রীন’ এসি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘চকরিয়া সার্ভিস’ মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের পর দুটি বাসই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং অন্য বাসটিরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়। দুর্ঘটনার ধাক্কায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত
খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হয়।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ হারানো বা চালকদের অসতর্কতার কারণে এ সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায়ই যানবাহনের চাপ থাকে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে এই রুটে বাস ও অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে চালকদের সতর্কতা, গাড়ির ফিটনেস এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত যানবাহন পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আহ্বান
স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Source: Based on reporting from দৈনিক ইত্তেফাক
