৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা শিবিরের

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। “জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ” প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ৩৬ দিনব্যাপী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, জুলাই আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, শহীদদের স্মরণ এবং ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিকে জোরালো করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

দেশজুড়ে বিক্ষোভ, প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। সংগঠনটি গণভোটের রায়, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছে।

এছাড়া জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ এবং বিভিন্ন সাময়িকী প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে “শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ” শীর্ষক প্রদর্শনীর পাশাপাশি আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে।

গবেষণা, প্রতিযোগিতা ও অনলাইন ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা

ছাত্রশিবির জানিয়েছে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে “জুলাই জাগরণ” শীর্ষক ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, গবেষণা সম্মেলন, আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচিত্র তুলে ধরা হবে।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, স্মৃতিচারণ, রচনা, বিতর্ক ও বক্তব্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া “জুলাই শহীদ স্মৃতি” ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক পডকাস্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও কর্মসূচির ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে। ‘Echoes of July’ নামে ৩৬ দিনব্যাপী একটি ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শহীদদের স্মরণ ও বিচারের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।

তার বক্তব্যে বলা হয়, আন্দোলনের সময় নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

সরকারের সমালোচনা ও রাজনৈতিক অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং গণভোটের ম্যান্ডেট যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সংগঠনটির নেতারা প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস ও সংঘাতমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

তৃণমূল পর্যন্ত বাস্তবায়নের ঘোষণা

ছাত্রশিবির জানিয়েছে, ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচি দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর, জেলা এবং স্থানীয় শাখার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। সংগঠনটির নেতারা কর্মসূচি সফল করতে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও রাজনৈতিক তাৎপর্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি আগামী সপ্তাহগুলোতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।

সূত্র: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত বক্তব্য ও তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next News Previous News