ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গয়েশ্বরের সমালোচনার জবাব দিলেন পার্থ-শাহজাহান
জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে উত্থাপিত এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ইসলামী ব্যাংকে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তার বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ এবং জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনার সময় এ বিষয়টি সামনে আসে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পার্থ: ইসলামী ব্যাংকিং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং এখন শুধু মুসলিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নন-মুসলিমদের মধ্যেও এটি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকে চাকরির ক্ষেত্রে ধর্মীয় কোনো বাধা রয়েছে বলে তার জানা নেই। বরং ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয় বলে তিনি মনে করেন।
তবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিকারের পর্যবেক্ষণ
আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা বা বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অনুমাননির্ভর বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।
স্পিকারের মতে, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রয়োজন, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।
শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য
পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে শাহজাহান চৌধুরী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের অভিযোগ সরাসরি খণ্ডন করেন। তিনি দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করেছেন এবং এখনও কাজ করছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটি জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে গ্রাহকসেবা, লেনদেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে আসছে। তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক ব্যক্তি ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করেছেন।
ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে নতুন আলোচনা
সংসদের এ আলোচনা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার কার্যক্রম, নিয়োগনীতি এবং আর্থিক খাতে ধর্মভিত্তিক ধারণা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ইসলামী ব্যাংকিং মূলত শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রদান করলেও এর গ্রাহক ও কর্মী নির্বাচন সাধারণত ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ থাকে না।
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং খাত দেশের আর্থিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়ে যেকোনো আলোচনা তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: জাতীয় সংসদে আলোচনার ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
