শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের, বিজয় দাবি তেহরানের
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির পথে অগ্রগতি, জেনেভায় সইয়ের সম্ভাবনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের পর অবশেষে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় এখনও কিছু পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে তার দাবি, চলমান সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে এবং সম্ভাব্য চুক্তিতেও সেই বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে।
চুক্তি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, খসড়ায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দুই দেশের সম্পর্ককে একটি ইতিবাচক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও উভয় দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে জানান, একটি সম্ভাব্য চুক্তির অগ্রগতির কারণে তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রায়ান জিনকের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও।
গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হলে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
যদিও অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে এমন উদ্যোগ একাধিকবার থমকে গিয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের অবস্থান কিছুটা নমনীয় হওয়ায় একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
