কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে কুমিল্লার একটি শাখায়। গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে এফডিআর, ডিপিএস ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা তুলে নিচ্ছেন। গত ৮ কার্যদিবসে কুমিল্লা প্রধান শাখা থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন গ্রাহকরা বলে জানিয়েছে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ব্যাংকে গ্রাহকদের দীর্ঘ ভিড়
মঙ্গলবার (৯ জুন) কুমিল্লা প্রধান শাখায় সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই ব্যাংকে গ্রাহকদের চাপ বেড়ে যায়। অনেকে হিসাব বন্ধ করে পুরো জমা অর্থ তুলে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। টাকা উত্তোলনের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে সামাজিক আলোচনা ও বিভিন্ন গুজবের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় টাকা উত্তোলনের চাপ বেড়েছে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙছেন আমানত
ব্যাংক সূত্র জানায়, অনেক গ্রাহক তাদের মেয়াদি আমানত ও ডিপিএস নির্ধারিত সময়ের আগেই ভেঙে ফেলছেন। ১ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জুন একদিনেই প্রায় ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয় বলে জানা গেছে।
একাধিক গ্রাহক জানান, ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা শুনে তারা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় নিজেদের সঞ্চয় তুলে নিচ্ছেন।
গ্রাহকদের উদ্বেগ
একজন গ্রাহক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইসলামী ব্যাংকে সঞ্চয় করে আসছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা তুলে নিয়েছেন।
আরেক গ্রাহক জানান, তার ডিপিএসের মেয়াদ শেষ হতে কয়েক মাস বাকি থাকলেও পরিস্থিতির কারণে আগেই টাকা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ব্যাংকের পরিচালনা নিয়ে আলোচনা
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগের পর ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষের খবর আসে।
এর পর থেকেই কিছু গ্রাহকের মধ্যে ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা সাধারণত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুজবের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
ইসলামী ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ব্যাংকটির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। কারণ, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রাহকের আস্থা একটি প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
Source: Based on reporting from Sarabangla
