ইসরাইলের গোয়েন্দাগিরিতে আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা!

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদফতর পেন্টাগনে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তির সম্ভাব্য হুমকি মূল্যায়নের মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে পেন্টাগনের গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ)।

যুক্তরাষ্ট্রের দুজন বর্তমান এবং একজন সাবেক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে এনবিসি নিউজ ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রথমে শুক্রবার (৫ জুন) এনবিসি নিউজ বিষয়টি প্রকাশ করে। পরদিন দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কৌশলগত অবস্থান এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার তথ্য সংগ্রহে ইসরাইল আগ্রহী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন গোয়েন্দারা।

ডিআইএর মূল্যায়ন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস ও জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে চলমান আলোচনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ইসরাইলের নজরদারি কার্যক্রম বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আশঙ্কার ভিত্তিতেই ঝুঁকির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও কৌশল নিয়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্যও পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর সম্ভাব্য ইসরাইলি নজরদারির বিষয়ে সতর্ক নজর রাখছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ আলোচক স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ এ. কোলবি এবং তার সহযোগী মাইকেল পি. ডিমিনো চতুর্থ।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গোয়েন্দা তৎপরতা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে ডিআইএর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এই তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে চাপ বাড়ানোর পর থেকে পরিস্থিতি আরও স্পষ্টভাবে নজরে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও এ বিষয়ে ইসরাইল বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও বিষয়টি দুই মিত্র দেশের সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

Next News Previous News