সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বপরিসরেও অবদান রাখছে : সেনাপ্রধান

বিএমএ থেকে ১৮৪ নবীন কর্মকর্তার কমিশন লাভ, দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের উদ্বোধন

বিএমএ থেকে ১৮৪ নবীন কর্মকর্তার কমিশন লাভ, উদ্বোধন হলো দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য নতুন প্রজন্মের ১৮৪ জন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেছেন। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে তারা বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। একই অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে নতুন ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়েছে।

সেনাপ্রধানের বার্তা

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দক্ষ, পেশাদার ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অফিসার ক্যাডেটদের জন্য আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের যাত্রা শুরু হয়েছে।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, শপথগ্রহণের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাদের কাঁধে অর্পিত হয়েছে। তিনি সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, একজন সেনা কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নেতৃত্বগুণ, নৈতিকতা এবং দেশের প্রতি অটুট অঙ্গীকার। এসব গুণাবলি ধারণ করেই নতুন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

১৮৪ জন নতুন কর্মকর্তা কমিশন লাভ

৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। এর মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ ছাড়া ফিলিস্তিন, তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও মালদ্বীপের সাতজন বিদেশি ক্যাডেটও সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিএমএর গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সেরা ক্যাডেটদের পুরস্কার

অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন। একই সঙ্গে সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য তিনি ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

অন্যদিকে তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর বিদেশি ক্যাডেটদের মধ্যে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব দেখিয়ে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন।

অভিভাবকদের আবেগঘন মুহূর্ত

কুচকাওয়াজ ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে নবীন কর্মকর্তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকেরা তাদের কাঁধে র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন। এই মুহূর্তটি উপস্থিত পরিবারগুলোর জন্য ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও গর্বের।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং দেশের সেবায় তাদের অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নতুন অবকাঠামোর উদ্বোধন

অনুষ্ঠান শেষে সেনাপ্রধান বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে নবগঠিত দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পও উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব অবকাঠামো ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে নতুন ধাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চাহিদা পূরণে উন্নত প্রশিক্ষণ অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিএমএর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Source: Based on official statements from Bangladesh Army and Bangladesh Military Academy ceremony proceedings.

Next News Previous News