কাল থেকে শুরু হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যেভাবে দেখবেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬, যা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে থাকছে রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ। ১১ জুন মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ।
তিন দেশে একযোগে উদ্বোধনী আয়োজন
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো তিনটি আয়োজক দেশেই পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাখা হয়েছে। মেক্সিকো সিটি, টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে একযোগে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের খ্যাতনামা ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচের তত্ত্বাবধানে এসব আয়োজন সাজানো হয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠান নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ফুটবল আবেগকে তুলে ধরবে।
মেক্সিকো সিটিতে প্রথম ম্যাচ ও তারকা সমারোহ
১১ জুন ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা (বর্তমানে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ম্যাচের ভেন্যু হবে। সেখানে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও লোকশিল্পের প্রদর্শনী থাকবে।
এবারের উদ্বোধনীতে বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা পারফর্ম করবেন। তালিকায় রয়েছেন শাকিরা, জে বালভিন, আলেজান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা এবং টাইলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধনী
১২ জুন কানাডার টরন্টো এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বাকি দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। কানাডার অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের থিমে।
সেখানে পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, অ্যালেসিয়া কারা এবং নোরা ফাতেহি। উদ্বোধনের পর কানাডা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নিজেদের হোম ম্যাচ খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে।
অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, আনিটা, রেমা এবং কে-পপ তারকা লিসা। উদ্বোধনের পর যুক্তরাষ্ট্র খেলবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে।
বিশ্বজুড়ে সম্প্রচার ও দর্শক আগ্রহ
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচগুলো বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফক্স স্পোর্টস, টেলেমুন্ডো এবং টুবি অ্যাপের মাধ্যমে সম্প্রচার হবে। কানাডায় সিটিভি ও টিএসএন এবং মেক্সিকোতে টেলেভিসা ও টিভি আজতেকা সম্প্রচার করবে।
ইউরোপে বিবিসি ও আইটিভি এবং অন্যান্য অঞ্চলেও বিভিন্ন সম্প্রচার মাধ্যমে খেলা দেখা যাবে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন চ্যানেলে ম্যাচ সম্প্রচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা ও আয়োজন নিয়ে প্রস্তুতি
বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজক দেশগুলো বড় আকারের জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও স্টেডিয়াম নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন দেশের যৌথ আয়োজন বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ফুটবলের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা আরও বাড়াবে।
শেষ কথা
রেকর্ডসংখ্যক ম্যাচ, তিন দেশে একযোগে উদ্বোধন এবং তারকা সমারোহ—সব মিলিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক অভূতপূর্ব বিশ্ব আসর।
Source: Based on reporting from bd24report.com (Al Jazeera referenced)
