সন্তানকে জোর করে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থক বানাবেন না: আসিফ
বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যখন তুঙ্গে, তখন সন্তানদের পছন্দের দল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। তিনি বলেছেন, শিশুদের ওপর বাবা-মায়ের পছন্দ চাপিয়ে না দিয়ে তাদের নিজস্ব মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসিফের বার্তা
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ শুরু হওয়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন আসিফ আকবর। সেখানে তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের জোর করে কোনো নির্দিষ্ট দলের সমর্থক বানানো ঠিক নয়।
তিনি লেখেন, “আপনার সন্তানকে জোর করে আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের সমর্থক বানাবেন না। তাদের পছন্দকে সমর্থন দিন।”
আসিফের এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার বক্তব্যকে শুধু ফুটবল নয়, সন্তানদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের বিষয় হিসেবেও দেখছেন।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ উন্মাদনা
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলেই বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।
বাড়ির ছাদে পতাকা টাঙানো থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিয় দল নিয়ে আলোচনা—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে বড় ধরনের উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
অনেক পরিবারে ছোটরা বাবা-মা বা বড়দের পছন্দের দল অনুসরণ করে সমর্থক হয়ে ওঠে। তবে আসিফের মতে, শিশুদের নিজের মতো করে পছন্দ তৈরি করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
ভক্তদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
আসিফ আকবরের পোস্টে অনেকেই একমত প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, পরিবারে ভিন্ন দলের সমর্থন থাকলেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা সম্ভব।
অনেকের মতে, খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটি যেন চাপ বা বিরোধিতার কারণ না হয়। শিশুদের নিজস্ব চিন্তা ও আগ্রহকে সম্মান করা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
ফুটবলের বাইরেও একটি বার্তা
আসিফের বক্তব্য ফুটবল সমর্থনের বিষয় ছাড়িয়ে অভিভাবকত্বের একটি সাধারণ দিক তুলে ধরেছে। সন্তানদের পছন্দ, আগ্রহ ও মতামতকে গুরুত্ব দিলে পরিবারে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেও তার এই বার্তা মনে করিয়ে দিচ্ছে—খেলার আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি ভিন্ন মত ও পছন্দের প্রতি সম্মান রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
Source attribution: Source: Based on reporting from যুগান্তর ও সংশ্লিষ্ট বক্তব্য
