চীন থেকে কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না, জানতে চাইলেন রুমিন ফারহানা

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি জানতে চেয়েছেন, সফরকালে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না এবং নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না।

সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজেট ঘাটতি এবং বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি।

সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইলেন সংসদ সদস্য

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের মধ্যে নানা প্রত্যাশা ছিল। তাই সফরে বাংলাদেশ কোনো ঋণ সুবিধা, আর্থিক সহায়তা বা বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারকে পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে যখন দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থায়নের বিষয়ে স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ

সংসদে বক্তব্যের সময় রুমিন ফারহানা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি মন্তব্যেরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীন সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কোনো তথ্য দেননি। বরং তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে বাংলাদেশ কোনো দেশের কাছে “ভিক্ষার ঝুলি” নিয়ে যায়নি।

রুমিন ফারহানা বলেন, কেউই বাংলাদেশকে এমন অবস্থানে দেখতে চান না। তবে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত।

বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ

সংসদ সদস্য বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, বিপরীতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

তিনি দাবি করেন, বাস্তবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায়ই পূরণ হয় না। ফলে কাগজে-কলমে নির্ধারিত ঘাটতির চেয়েও প্রকৃত ঘাটতি বেশি হয়ে যায় এবং সরকারকে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর আরও নির্ভরশীল হতে হয়।

অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরলেন রুমিন

বক্তব্যে তিনি দেশের অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতাকেও তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর নীতি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

চীন সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্যিক অংশীদার। অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং শিল্প খাতে চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফর থেকে নতুন বিনিয়োগ বা অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে জনমনে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তবে সফরের ফলাফল এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চুক্তিগুলোর বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পরই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next News Previous News