নিমগাছ নিয়ে সোনামণিদের গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী
দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণ করার পর উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ লাগানোর ইতিহাস নিয়ে একটি গল্প শোনান।
সোমবার সারা দেশে একযোগে ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্য দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের গাছের গুরুত্ব, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সময় তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন ছোটবেলা থেকেই গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলে এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
নিজ হাতে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করার পর তিনি শিক্ষার্থীদের জানান, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিমগাছের উপকারিতা ও পরিবেশগত গুরুত্ব স্বীকৃত। এরপর তিনি আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ লাগানোর একটি ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরেন।
আরাফাতের ময়দান ও নিমগাছের গল্প
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে অসংখ্য নিমগাছ দেখা যায়, যা হজযাত্রীদের জন্য ছায়া ও পরিবেশগত স্বস্তি নিশ্চিত করছে। কিন্তু কয়েক দশক আগে সেখানে এমন কোনো গাছ ছিল না।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালের দিকে ওমরাহ পালনকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আরাফাতের ময়দানের বিস্তীর্ণ খালি জায়গা দেখে সেখানে গাছ লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি তৎকালীন সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন এবং মরুভূমির আবহাওয়ায় টিকে থাকতে পারে এমন গাছের বিষয়ে মতামত দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শের ভিত্তিতে নিমগাছকে সম্ভাব্য উপযোগী প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে নিমগাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গাছগুলো বড় হয়ে আরাফাতের বিস্তীর্ণ এলাকাকে সবুজে আচ্ছাদিত করে।
বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, বরং মাটি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমাতেও সহায়তা করে।
সরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলা এবং সবুজায়নের সংস্কৃতি বিস্তৃত করা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সবুজায়ন কর্মসূচি
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, একযোগে ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা-ভিত্তিক সবুজায়ন উদ্যোগ। এর মাধ্যমে লাখো শিক্ষার্থী সরাসরি পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু পরিবেশগত উপকারই বয়ে আনবে না, বরং শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও সহায়ক হবে।
উপসংহার
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলা নিমগাছের গল্প শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির একটি ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি এই ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করেন।
সূত্র: বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
