সাবেক আইজিপি শহীদুলসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
বন্দুকযুদ্ধের নামে ছাত্রদল নেতা মো. নুরুজ্জামান জনিকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের আদেশ ও শুনানি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত দেয়। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় আবেদন করা হয়। আদালত উভয় আবেদন গ্রহণ করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
২০১৫ সালের ঘটনার অভিযোগ
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. নুরুজ্জামান জনি। ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে থেকে তাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে ছাত্রদলের আরেক নেতা মহিউদ্দিনও ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওই রাতেই খিলগাঁও খেলার মাঠে জনিকে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা সাজিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এবং তৎকালীন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে তদন্ত
আদালতের অনুমতির পর তদন্ত কর্মকর্তারা মামলার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাবেক দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হলে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রমাণ যাচাইয়ের পরই আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।
অভিযোগ ও বিচারের গুরুত্ব
এ ধরনের মামলায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণ করাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য।
Source attribution: Source: Based on reporting from সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন সূত্র
