হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার
রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য আগামী রোববার থেকে এই বিশেষ বেঞ্চ কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এর আগে তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তার প্রস্তাবকে সমর্থন করেন।
রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়
মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়।
রায়ের পাশাপাশি আদালত আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এই অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশ
আদালত জানিয়েছে, নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় শুধু রায় ঘোষণা নয়, উচ্চ আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা কার্যকর হয় না।
বিশেষ বেঞ্চের গুরুত্ব
নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগকে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গুরুতর অপরাধের মামলায় বিচারিক জট কমানো সম্ভব হতে পারে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত আইনি সমাধানের সুযোগ পাবে।
শিশু সুরক্ষায় বাড়ছে গুরুত্ব
শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে। এসব মামলায় দ্রুত তদন্ত, বিচার এবং আইন প্রয়োগের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মনে করেন মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞরা।
রামিসা হত্যা মামলার বিচারিক অগ্রগতি শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Source: Based on reporting from the original news report
