ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড়তে সম্মতি ট্রাম্পের

ইরানের অবরুদ্ধ থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরাসরি নিশ্চিত বক্তব্য দেয়নি ওয়াশিংটন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি শুক্রবার (১২ জুন) এক অনুষ্ঠানে এ দাবি করেন। তার বক্তব্যের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

সম্পদ মুক্তির দাবির পেছনে কী রয়েছে

ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক বিরোধের কারণে দেশটির কিছু অর্থ বিদেশে আটকে রয়েছে। এসব সম্পদ মুক্ত হলে ইরানের অর্থনীতিতে স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছে দেশটি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ার বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনো নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতা হলে আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর শর্তের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্পদ মুক্তি, নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক ইস্যু—এই তিনটি বিষয়ই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আঞ্চলিক প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যেকোনো সমঝোতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও বাস্তব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হবে।

উপসংহার

ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তির দাবি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। আগামী দিনের কূটনৈতিক আলোচনা থেকেই স্পষ্ট হবে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোচ্ছে।

Source: Based on reporting from Jugantor

Next News Previous News