চুক্তির শর্ত নিয়ে বিভ্রান্তি, ইরানের দাবিকে ‘ভুয়া’ বললেন ট্রাম্প

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত চুক্তির শর্তগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত চুক্তির শর্তগুলো বাস্তব আলোচনার সঙ্গে মিল নেই। তার দাবি, উভয় পক্ষ লিখিতভাবে যে বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে সেগুলোর প্রতিফলন নেই।

চুক্তির দাবি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান

ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হতে পারে।

তবে শুক্রবারের বক্তব্যে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ প্রকাশিত সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলোকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠছে।

ইরানের প্রকাশিত শর্তে কী ছিল

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ প্রকাশিত প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সমঝোতার কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান কোনো বড় ছাড় দেয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিন পর নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার বিষয়েও ইরান কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। বরং জলপথে নিরাপদ চলাচল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ ও কূটনীতির মধ্যে টানাপোড়েন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে একদিকে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নজর রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং উভয় পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস ও স্পষ্ট শর্তের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোট কোনো ভুল বোঝাবুঝিও নতুন করে সংঘাত বাড়াতে পারে।

উপসংহার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও নতুন বিতর্ক সেই প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এখন আলোচনার টেবিলে উভয় পক্ষ কীভাবে সমঝোতায় পৌঁছায়, সেটিই মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Source: Based on reporting from Somoy News

Next News Previous News