কিম জং উনের মন জয়ে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং

শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর

দীর্ঘ সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং

প্রকাশিত: ৬ জুন | আন্তর্জাতিক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সোমবার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন। প্রায় সাত বছর পর তার এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন অবস্থান তৈরি করেছেন।

পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শন করা। একই সঙ্গে বেইজিং উত্তর কোরিয়ার ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ং রাশিয়ার দিকে আরও বেশি ঝুঁকেছে।

অন্যদিকে কিম জং-উনও নিজেকে চীনের কেবল একটি ‘জুনিয়র পার্টনার’ হিসেবে দেখতে রাজি নন। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে চীনের কাছ থেকে আরও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের উদ্বেগ

২০২৪ সালে মস্কোর সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের পর উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের একক প্রভাব কমে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে জ্বালানি, খাদ্য এবং সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি চীনের জন্য উদ্বেগের কারণ। কারণ বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের নিরাপত্তা বলয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

কিমের শক্তিশালী অবস্থান

কয়েক বছর আগেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কিম জং-উনের সরকার বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে ছিল। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হওয়ার পর দেশটি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ পেয়েছে।

বর্তমানে কিম পর্যটন খাত সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন এবং চীনা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন সমুদ্র সৈকত ও পাহাড়ি রিসোর্ট গড়ে তুলছেন।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন

সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয় হতে পারে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কিম জং-উনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করলেও, কিম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নন।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া এখন পারমাণবিক অস্ত্রকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। একই সঙ্গে চীনও আগের তুলনায় এ বিষয়ে তুলনামূলক নরম অবস্থান নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক প্রভাব

পর্যবেক্ষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সফর শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য, রাশিয়া-চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাবের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর

দীর্ঘ সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং

প্রকাশিত: ৬ জুন | আন্তর্জাতিক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সোমবার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন। প্রায় সাত বছর পর তার এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন অবস্থান তৈরি করেছেন।

পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শন করা। একই সঙ্গে বেইজিং উত্তর কোরিয়ার ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ং রাশিয়ার দিকে আরও বেশি ঝুঁকেছে।

অন্যদিকে কিম জং-উনও নিজেকে চীনের কেবল একটি ‘জুনিয়র পার্টনার’ হিসেবে দেখতে রাজি নন। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে চীনের কাছ থেকে আরও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের উদ্বেগ

২০২৪ সালে মস্কোর সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের পর উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের একক প্রভাব কমে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে জ্বালানি, খাদ্য এবং সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি চীনের জন্য উদ্বেগের কারণ। কারণ বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের নিরাপত্তা বলয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

কিমের শক্তিশালী অবস্থান

কয়েক বছর আগেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কিম জং-উনের সরকার বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে ছিল। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হওয়ার পর দেশটি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ পেয়েছে।

বর্তমানে কিম পর্যটন খাত সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন এবং চীনা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন সমুদ্র সৈকত ও পাহাড়ি রিসোর্ট গড়ে তুলছেন।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন

সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয় হতে পারে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কিম জং-উনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করলেও, কিম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নন।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া এখন পারমাণবিক অস্ত্রকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। একই সঙ্গে চীনও আগের তুলনায় এ বিষয়ে তুলনামূলক নরম অবস্থান নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক প্রভাব

পর্যবেক্ষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সফর শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য, রাশিয়া-চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাবের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Next News Previous News