নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে নারীকে পেটালেন যুবদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী নারী তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) একই এলাকার বাসিন্দা।
পূর্ববিরোধ থেকে সংঘর্ষের অভিযোগ
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে যুবদল নেতা মো. সফিকের সঙ্গে তাদের পরিবারের বিরোধ চলছিল। তিনি দাবি করেন, তার স্বামী কয়েক মাস ধরে সফিকের অধীনে কাজ করলেও পাওনা টাকা পাননি।
খুকির ভাষ্য অনুযায়ী, বেতন চাইতে গেলে নানা অভিযোগ তোলা হয়। পরে এ বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় এবং শনিবার সকালে বাড়ির পাশে থাকা একটি জাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ করা হয়, প্রথমে তার স্বামীকে মারধর করা হয়। পরে স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা মো. সফিক। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার আগে ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
সফিকের অভিযোগ, ঘটনার সময় খুকি ও তার স্বামীই তাকে আক্রমণ করেন এবং এতে তিনি আহত হয়েছেন। তার দাবি, পুরো ঘটনার বিষয়ে একপক্ষীয় অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কোনো স্বীকৃতি দেননি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে আইনগত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের অবস্থান
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ জমা দেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
নারীর ওপর প্রকাশ্যে সহিংসতার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যাই হোক না কেন, কোনো নাগরিকের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
উপসংহার
নোয়াখালীর এই ঘটনায় এখন মূল নজর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং ভাইরাল ভিডিও—সবকিছু যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
Source: Based on reporting from Talash BD
