খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা বাড়ছে ৫ হাজার টাকা

খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এই পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।

বাজেটে ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মাসিক ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারের মাসিক ভাতা ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তমদের পরিবারের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকদের পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এর আগে এসব ভাতার পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল।

সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা অপরিবর্তিত

বাজেট প্রস্তাবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা অপরিবর্তিত রাখার কথা জানানো হয়েছে। তাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২০ হাজার টাকা বহাল থাকবে বলে প্রস্তাব করা হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের অবদান ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করাই এই ভাতা বৃদ্ধির অন্যতম লক্ষ্য।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বড় বরাদ্দ

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য বড় ধরনের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এই খাতে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বেশি।

এই খাতের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি বাড়ানো এবং দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সময়ে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় ভাতা বৃদ্ধি সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর জন্য সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারগুলো দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় তাদের কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সঠিক তালিকা, নিয়মিত তদারকি এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনকল্যাণমূলক বাজেটের অংশ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুবিধা ও ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব সেই পরিকল্পনার অংশ।

প্রস্তাবিত এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক আর্থিক সহায়তা আরও বাড়বে এবং তাদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।

Source attribution: Source: Based on reporting from আমার দেশ ও জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা

Next News Previous News