সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের শূন্যপদ ৯,৪০৭
বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসক সংকট আবারও সামনে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের শূন্যপদ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪০৭টি। একই সঙ্গে নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর বহু পদও খালি রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে এই জনবল ঘাটতি দেশের চিকিৎসা সেবার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
স্বাস্থ্য খাতে শূন্যপদের ভয়াবহ চিত্র
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট অনুমোদিত চিকিৎসক পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য রয়েছে। একই সময়ে নার্সদের ৪৯ হাজার ৫০১টি পদের মধ্যে ৫ হাজার ৩২টি পদও খালি রয়েছে।
এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এসব শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে সেবা প্রদানে চাপ বাড়ছে এবং রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলা ও গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংকট আরও গভীর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ১৩ হাজার ২১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭ হাজার ৪২৯ জন। ফলে ৫ হাজার ৭৮২টি পদ এখনো শূন্য। একইভাবে নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ ফাঁকা রয়েছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক, নার্স এবং স্যাকমো (সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) পর্যায়ে হাজারো পদ শূন্য রয়েছে, যা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে দুর্বল করে তুলছে।
কমিউনিটি ক্লিনিক ও ওষুধ সরবরাহ
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। প্রতিটি ক্লিনিক বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ পায়, যার গড় ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকা। তবে জনবল সংকটের কারণে এসব ক্লিনিকের সেবা কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ট্যানারি বর্জ্য নিয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকির সতর্কতা
সংসদে আলোচনায় ট্যানারি বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য নিয়ে গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিও উঠে আসে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এসব বিষাক্ত উপাদান মানবদেহে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা ও আলসারের মতো রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ব্যবহৃত ভারী ধাতু, বিশেষ করে ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’, খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। সরকার ইতোমধ্যে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরসহ একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো নয়, স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি পূরণ না হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনবল সংকট থাকায় সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাদের মতে, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া, বেতন কাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসকদের প্রণোদনা বাড়ানো জরুরি।
শেষ কথা
সরকারি হাসপাতালগুলোতে হাজার হাজার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্যপদ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
Source: Based on reporting from Samakal (National Desk)
