দেশে ফের ভূমিকম্প
দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে হওয়া এই কম্পনে সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু এলাকায় কাঁপুনি অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শিলচর এলাকায় ছিল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল
ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ৪০ মিনিটে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের করিমগঞ্জ সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের শিলচর এলাকায়।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। এর কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল বলে জানানো হয়েছে।
সিলেট ও ঢাকায় অনুভূত কম্পন
স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চলে কম্পনের অনুভূতি তুলনামূলক বেশি ছিল। পাশাপাশি ময়মনসিংহ ও ঢাকার কিছু এলাকাতেও মানুষ ভূমিকম্প টের পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ সতর্ক হয়ে ঘর ও ভবনের বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে কম্পনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
এর আগে দেশজুড়ে অনুভূত হয়েছিল বড় কম্পন
এর আগে ৭ জুন রাতেও দেশে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ওই সময় রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভুটান এলাকায় ছিল বলে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
পরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনেক সময় স্বাভাবিক ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও সতর্কতা
বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় নিয়মিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা মান বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা, ভারী বস্তু থেকে দূরে থাকা এবং কম্পন থামার পর সতর্কতার সঙ্গে বাইরে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্টরা
সর্বশেষ ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও সঠিক প্রস্তুতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Source attribution: Source: Based on reporting from ইউরোপীয় মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) ও সংবাদ প্রতিবেদন
