জনগণকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হবে: জামায়াত এমপি মারদিয়া

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেছেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি নাগরিকদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন, তাহলে জনগণকে নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।

সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টন কলেজ মিলনায়তনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে তার নামে বরাদ্দকৃত সহায়তা সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চায় জামায়াত’

মারদিয়া মমতাজ বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হলো নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় অধিকার তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্বাস করে এবং দলটি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”

তার বক্তব্যে তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

জুলাই আন্দোলনের ‘চেতনা’ বাস্তবায়নের দাবি

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা” বাস্তবায়ন না হলে জনগণের অধিকার পুরোপুরি ফিরে আসবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই চেতনার মূল বিষয় হচ্ছে ইনসাফ, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

ড. হেলাল আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হলেও সরকার গণভোটের ফলকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি এ পরিস্থিতিকে “ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা” বলে উল্লেখ করেন।

কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের কথা বলছে যেখানে নাগরিকরা তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতভাবে পাবে এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তা আরও বিস্তৃত হবে।

ড. হেলাল উদ্দিন দাবি করেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশকে একটি “কল্যাণ রাষ্ট্রে” রূপান্তর করা হবে, যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা আরও বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা মোতাছিম বিল্লাহ, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সালেহা মমতাজ ও দিলারা বেগমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম এখন জনসংযোগ ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচিতে দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরছে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News