রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ জামায়াতের
রাজধানীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখা। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, বর্জ্য অপসারণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা বলা হলেও বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত হয়নি, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শনিবার রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও ঈদযাত্রা সম্পর্কিত বিষয়েও বক্তব্য দেন।
বর্জ্য অপসারণ নিয়ে অসন্তোষ
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিষয়ে সিটি করপোরেশন বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে অনেক এলাকায় সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তার মতে, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না হলে দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ এবং রোগজীবাণুর বিস্তারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গরুর হাটে অনিয়মের অভিযোগ
জামায়াত নেতা রাজধানীর পশুর হাটগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু স্থানে টোকেন ব্যবস্থার আড়ালে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা ও সড়ক নিরাপত্তা প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখ করে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের সময় সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এ কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের সচেতনতা এবং সড়ক নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক বক্তব্যও তুলে ধরেন নেতারা
সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস ও গণআন্দোলনের ঘটনাগুলোকে অস্বীকার করা উচিত নয়। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জনসেবা, নগর ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও সক্রিয় করতে পারে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং যেকোনো অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করবে।
Source: Based on reporting from Amar Desh and statements made at a Jamaat-e-Islami press conference.
