এনসিপি নেতাকে জুতাপেটা
বগুড়ার একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে ওই নেতাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে। পরে দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আলী আজম সাব্বির খান, যিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। তিনি বগুড়ার টিটিসিতে স্বল্পমেয়াদি ড্রাইভিং ও আরএসি (রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং) প্রশিক্ষণ কোর্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাব্বির খান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ট্রেডে অধ্যয়নরত নারী শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বিরক্ত করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কয়েকজন নারী শিক্ষককেও অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন প্রস্তাব দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর প্রশাসনিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
অধ্যক্ষের কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে ছুটির দিনে অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সাব্বির খান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এতে ক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী প্রতিবাদে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ঘটনাটি দ্রুত অনলাইনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
প্রশাসনের অবস্থান
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এস এম ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আরও কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
দলীয় ব্যবস্থা
ঘটনার পর জেলা এনসিপি সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আলী আজম সাব্বির খানকে দলের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
দলের এক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযুক্তের বক্তব্যও বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনের দাবি
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতি হয়রানির অভিযোগ দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ বজায় থাকে।
ঘটনার তদন্ত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
Source: Based on reporting from Jugantor and statements from institutional and party sources.
