চাটমোহরে বিদ্যুতায়িত হয়ে ছেলের মৃত্যু, মা হাসপাতালে
পাবনার চাটমোহর উপজেলায় ঝড়ের পর ছিঁড়ে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার মা। মঙ্গলবার সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিশুর নাম হাসান। সে উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া গ্রামের শাহিনুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের কিছু তার ছিঁড়ে পড়ে ছিল। কিন্তু দ্রুত তা অপসারণ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঝড়ের পর ছিঁড়ে পড়ে ছিল বিদ্যুতের তার
এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঝড়ের কারণে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। খেলাধুলার সময় শিশুটি অসাবধানতাবশত ওই তারে হাত দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতায়িত হয়।
ছেলের চিৎকার শুনে তার মা সালমা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুর মৃত্যু
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হুমায়ুন কবীর জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত মা সালমাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টির সময় ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ঝড়ের সময় প্রায়ই এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে। তবে দ্রুত মেরামত বা সতর্কতা জারি না করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। তারা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর নজরদারি ও জরুরি সাড়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা ও কালবৈশাখীর মৌসুমে পুরোনো বা ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের কারণে গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ে। তাই ঝড়ের পর স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত তদারকি জরুরি।
এদিকে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, সকালে যে শিশুটি খেলাধুলা করছিল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে পরিবারের জন্য।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
