বিএনপিও পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনীর মতো ব্যবহার করতে চায়: হাসনাত

ঝিনাইদহে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ ও বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মূখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। সোমবার ঝিনাইদহ শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ঝিনাইদহে এনসিপি ও ছাত্রদলকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে।

পুলিশ ও বিচার বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন

ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকার পুলিশকে দলীয় বাহিনীর মতো ব্যবহার করতে চাইছে। তার দাবি, জেলা আদালত থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু এখনো কিছু কর্মকর্তার আচরণে দলীয় প্রভাবের ছাপ দেখা যাচ্ছে।”

হাসনাত আরও অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন মহল বিচার ও প্রশাসনিক কাঠামোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, অতীতে যেসব কারণে আওয়ামী লীগ জনসমর্থন হারিয়েছিল, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে বলে জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার জেরে উত্তেজনা

গত শুক্রবার ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করে।

ছাত্রদলের করা মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। রোববার তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও সোমবার আদালত থেকে জামিন পান তারেক রেজা। একই দিন সকালে তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সংবাদ সম্মেলনের পর এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নেন।

রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ

সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়লে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, “যখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন দেশের বাইরে অবস্থানকারী বিরোধী শক্তিগুলো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ এখন জেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক জোট ও দলগুলোর সক্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সামনের দিনগুলোতে বাড়তে পারে রাজনৈতিক উত্তেজনা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন ও জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণকে সামনে রেখে বিভিন্ন জেলায় দলীয় অবস্থান শক্ত করার প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষ, মামলা ও পাল্টা কর্মসূচির প্রবণতাও বাড়তে পারে।

তারা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংলাপ ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে।

Source: Based on reporting from local media reports and statements from NCP leaders

Next News Previous News