দেশের এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা হবে না: কৃষিমন্ত্রী
দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিজমি ও জলাশয়সহ সব ধরনের সম্পদ উৎপাদনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, “দেশের এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা হবে না।”
সোমবার সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক উৎপাদনমুখী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে কৃষিজমির পাশাপাশি অব্যবহৃত জলাশয়ও উৎপাদনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুকুর ও জলাশয়গুলোকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এগুলো শুধু অব্যবহৃত না থেকে খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তার মতে, জলাশয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও বাস্তবভিত্তিক কৃষি ও মৎস্যজ্ঞান দেওয়া সম্ভব হবে।
হালদার মাছের পোনা অবমুক্ত
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জলাশয়ে হালদা নদীর উন্নতমানের দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। মন্ত্রী বলেন, এসব মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে সক্ষম এবং পুকুরের পরিবেশ ও খাদ্য উপযোগী হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য আকার ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে হালদা নদীর গুরুত্ব অনেক বেশি। এ নদী দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। মাছ চাষ ও খাদ্য উৎপাদন বিষয়ে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
দেশীয় মাছ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উন্মুক্ত জলাশয়ে ব্যাপক হারে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি হ্যাচারিগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, উন্নতমানের পোনা উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা আরও বাড়বে এবং বাজারে এর চাহিদা পূরণ সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঞাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
