ঈদের ভিজিএফের ১০ কেজি চালের বদলে ৩০০ টাকা, ক্ষোভ উপকারভোগীদের
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ করা চালের পরিবর্তে নগদ টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার একটি ইউনিয়নে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপকারভোগীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩০০ টাকা।
মঙ্গলবার বিকেলে বাবুখালী ইউনিয়নে উপকারভোগীদের মধ্যে টাকা বিতরণের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা এবং সরকারি সহায়তা বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
চালের বদলে টাকা পেয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় বাবুখালী ইউনিয়নে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে অনেক উপকারভোগী অভিযোগ করেন, তাদের নামে স্লিপ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত চাল দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে প্রত্যেককে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
উপকারভোগীদের একাংশ দাবি করেছেন, তারা চালের পরিবর্তে নগদ টাকা নিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে তাদের টাকা গ্রহণে বাধ্য করা হয়েছে। এতে তারা সরকারের প্রকৃত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, ঈদের সময় দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার যে সহায়তা দেয়, সেটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, চালের পরিবর্তে টাকা দিয়ে প্রকৃত সুবিধা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
আরও কয়েকজন উপকারভোগী জানান, বর্তমান বাজারদরে ১০ কেজি চালের মূল্য ৩০০ টাকার চেয়ে বেশি। ফলে তারা আর্থিকভাবেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা
অভিযোগের বিষয়ে বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, চালের বস্তাগুলোতে পরিমাণ কম থাকায় শেষ দিকে কিছু উপকারভোগীর জন্য চাল সংকট তৈরি হয়। সে কারণে যাদের চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের নগদ ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের একাংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণে সঠিক তদারকি না থাকায় প্রায়ই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের তদন্তের আশ্বাস
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি জানিয়েছেন, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। চালের পরিবর্তে নগদ অর্থ বিতরণের কোনো বিধান নেই।
তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল দেশের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে ঈদের সময় খাদ্য সহায়তা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি স্বস্তি এনে দেয়।
তবে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
তারা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
Source: Based on reporting from local media reports, beneficiary statements and administration officials
