মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত করা হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ, স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি প্রতিমন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতিহাসকে ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সঠিক ইতিহাসচর্চার পরিপন্থী।

রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইতিহাসচর্চা নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ দেশের জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হলেও তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তার মতে, নিরপেক্ষ ও গবেষণাভিত্তিক ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক তথ্য জানতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে প্রকাশনা ও গবেষণায় পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে, যা ইতিহাসের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্বচ্ছতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বই প্রকাশসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ দূর করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসচর্চায় স্বচ্ছতা ও বহুমাত্রিক গবেষণা নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় ঐতিহ্য আরও সুসংহত হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বক্তব্যে তিনি সাবেক সরকারের সমালোচনাও করেন এবং দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ের নীতি ও ব্যবস্থাপনায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও তা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা জরুরি, যাতে বিভাজন না বাড়ে।

ব্যক্তিগত অঙ্গীকার

নিজেকে তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাকে দেওয়া দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। একইসঙ্গে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে গবেষণা ও সৃজনশীল কাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

উপসংহার

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক এই বক্তব্য আবারও বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরপেক্ষ গবেষণা, মুক্ত মতবিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে ইতিহাসচর্চা আরও গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী হবে।

Source: Based on reporting from যুগান্তর

Next News Previous News