আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে : ইরানি রাষ্ট্রদূত
আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে: ইরানি রাষ্ট্রদূত
ঢাকা, ১ এপ্রিল ২০২৬: ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী বলেছেন, যুদ্ধের এক মাস যেতে না যেতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প পালাবার পথ খুঁজছেন। আজ (বুধবার) ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি
রাষ্ট্রদূত বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ করার কথা বলছে। কিন্তু যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি, ইরান শুরু করেনি। যুদ্ধ শুরু করেছে আমেরিকা এবং ইসরায়েল। আমরা কখনোই যুদ্ধ চাই না, আমরা চাই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক এবং দ্রুত যুদ্ধ শেষ হোক। আমরা আত্মরক্ষায় সক্ষম—এ ব্যাপারে আমরা সন্তুষ্ট।”
“এই যুদ্ধে ইরান আগে থেকে কোনো আক্রমণ করেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই যুদ্ধ শুরু করেছে। তবে যুদ্ধের এক মাস যেতে না যেতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট পালাবার পথ খুঁজছেন।”
আলোচনা ও হামলা
রাষ্ট্রদূত জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় তারা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা ও সংলাপে ছিল। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খোলা ছিল, কিন্তু আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েলের উসকানিতে আমেরিকা হঠাৎ হামলা চালায়।
“একটি প্রবাদ আছে—কুকুর তার লেজ নাড়ায়; কিন্তু এখানে উল্টোটা—লেজই কুকুরকে নাড়াচ্ছে। অর্থাৎ ইসরায়েল আমেরিকা, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে তার যুদ্ধবাজ নীতির জন্য ব্যবহার করছে।”
যুদ্ধবিরতির অযৌক্তিকতা
জলিল রহীমি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা জোটবদ্ধ থাকে, তারা আক্রমণ করে; অস্ত্রের ঘাটতি এলে শান্তির কথা বলে। এটা হতে পারে না যে বিপদের সময় তারা যুদ্ধবিরতির কথা বলবে আর আমরা তা মেনে নেব।”
ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা
রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমরা এখনও প্রতিদিন ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছি এবং আমাদের সামরিক শক্তি বহাল আছে। অন্তত ১৪টি মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস করেছি। যেখানে তারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে—আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলছি।”
সাংস্কৃতিক ও মানবিক আগ্রাসন
তিনি আরও বলেন, “আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলাকে শুধুমাত্র সামরিক অভিযান বলা যথাযথ হবে না। এটি বিস্তৃত সাংস্কৃতিক, মানবিক, নিরাপত্তা, পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক আগ্রাসন—পুরো সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। বেসামরিক জনগণ, শিশু, নারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।”
ইরানের স্থিতিশীলতা ও জনগণের প্রতিরোধ
রাষ্ট্রদূত বলেন, “যুদ্ধের প্রথম লক্ষ্য ছিল আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংস করা। তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের জনগণ প্রতিদিন রাস্তায় নেমে এসেছে। সব মত, সব দল, সব ধর্মের
