ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বনির্ভর করে তোলা হবে : মির্জা ফখরুল

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের স্বনির্ভরতায় ঋণ ও প্রশিক্ষণের আশ্বাস দিলেন মির্জা ফখরুল

দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তুলতে এসএমই ঋণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা গেলে এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব। 0

ঐক্য ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা

সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের নিজেদেরকে দেশের মূল জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করে বাংলাদেশের সামগ্রিক জাতিসত্তার অংশ হিসেবে ভাবতে হবে। একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব ঐক্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধন অটুট রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তার ভাষায়, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, হিংসা ও বিভাজনের প্রবণতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় জাতীয় সংহতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য রক্ষা করা আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। 1

এসএমই ঋণ ও প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (SME) ঋণ সুবিধা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, হস্তশিল্প, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প এবং স্থানীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 2

বাংলাদেশে এসএমই খাত ইতোমধ্যে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণকে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাদের আয়, শিক্ষা এবং সামাজিক অবস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ইঙ্গিত

মির্জা ফখরুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী থেকে একজন প্রতিনিধি সংসদে আসতে পারেন। এটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পর্যায়ে তাদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। 3

বৃহৎ সমাবেশের ঘোষণা

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকায় আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে একটি বড় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য হবে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি করা। 4

উপসংহার

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এই ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ কাঠামো এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Source: Based on reporting from BSS, Bangla Tribune and other verified news sources

```5
Next News Previous News