ভবিষ্যতে দেশের সবাই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ড, সামাজিক নিরাপত্তা, দরিদ্র সহায়তা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে একটি একক সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবে, যেখানে কোনো ধরনের তদবির বা আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন হবে না।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড চালুর লক্ষ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা। বর্তমানে বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তা প্রকল্প থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীদের তালিকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। নতুন এই কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইস তৈরি হবে, যা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছাতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমে যাবে এবং সহায়তা প্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।”
ধর্মীয় ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা
ডা. জাহিদ হোসেন জানান, সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মতো ধর্মীয় ব্যক্তিদেরও পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
খাল খনন প্রকল্পে পরিবেশ ও কৃষিতে গুরুত্ব
খাল খনন কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে দেশের ৫৪টি জেলায় এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মৎস্য ও হাঁস চাষের প্রসার এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় খাল পুনঃখনন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানির সঠিক ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।
রাজনৈতিক শৃঙ্খলার ওপর জোর
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক কর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে জনজীবনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
ঈদ উপলক্ষে সহায়তা বিতরণ
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রায় ১০ হাজার অসহায় পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি এবং নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই সহায়তা ঈদকে সামনে রেখে দরিদ্র মানুষের কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।
অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপসংহার
ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের অন্তর্ভুক্তির ওপর।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
