জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগের মধ্যেই সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে মোট প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ মজুত ও সরবরাহ ব্যাহত করার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, নিয়মিত আমদানি ও মাঠপর্যায়ের তদারকি জোরদারের ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অভিযানে উদ্ধার ৮৭ হাজার লিটারের বেশি জ্বালানি

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, ৩০ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ৮৭,৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৬৭,৪০০ লিটার ডিজেল, ১৩,৮৫৬ লিটার পেট্রোল এবং ৬৪৪ লিটার অকটেন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ ওঠার পর অবৈধ মজুত, অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং সরবরাহে অনিয়ম ঠেকাতে এই অভিযান জোরদার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তেলের পরিমাণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে ঘাটতির একটি অংশ কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

বর্তমান মজুতের চিত্র

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ১,৯২,৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ১,২৮,৯৩৯ টন ডিজেল, ৭,৯৪০ টন অকটেন, ১১,৪৩১ টন পেট্রোল এবং ৪৪,৬০৯ টন জেট ফুয়েল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিমাণ মজুত দেশের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে তাৎক্ষণিকভাবে যথেষ্ট হলেও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়ম থাকলে ভোক্তা পর্যায়ে সংকটের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ডিজেলের চাহিদা বেশি থাকায় এ খাতের সরবরাহে বিঘ্ন জনদুর্ভোগ বাড়াতে পারে।

চট্টগ্রামসহ বিভাগভিত্তিক নজরদারি

জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে সারাদেশের ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগরে ১১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন এবং মহানগরে আরও ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন।

রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও একই ধরনের তদারকি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকর্তার কাজ হবে পাম্পভিত্তিক সরবরাহ, বিক্রয় এবং মজুত পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।

সামনে হজ মৌসুম, জেট ফুয়েলে বিশেষ পরিকল্পনা

আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুত ও সরবরাহ নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। বিমান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এই খাতে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে সরকার বলছে, জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট নেই; তবে মাঠপর্যায়ের অনিয়ম, কৃত্রিম মজুত এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। ভোক্তাদের জন্য এর তাৎপর্য হলো—পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক চাপ এখন আরও দৃশ্যমান হবে।

Source: Based on reporting from Ministry briefing and national news reports

Next News Previous News