ইরান না যুক্তরাষ্ট্র—যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে মিথ্যা বলছে কে?
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের অস্বীকার—কে বলছে সত্য?
ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন কয়েক সপ্তাহ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো প্রস্তাব তারা পায়নি।
ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তিনি ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা করেছেন। তার মতে, ইরান নাকি তার দেওয়া শর্ত মেনে নিচ্ছে। তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার এমন কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছেন।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই বিরোধের পেছনে বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রাম্প হয়তো বাজার স্থিতিশীল রাখতে আলোচনার কথা বলছেন, আর ইরান বিষয়টি অস্বীকার করে বাজারে চাপ তৈরি করতে চাইছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, একজন ‘শীর্ষ’ ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে তার ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তিনি ইরানকে পাঁচ দিনের সময়ও দিয়েছেন ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জন্য। অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, এই সময়সীমা মার্কিন শেয়ারবাজারের সপ্তাহের সঙ্গে মিলে যায়।
গত দুই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেলের দাম ব্যাপক ওঠানামা করেছে এবং একসময় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আলোচনার দাবি বাজারকে শান্ত রাখার একটি কৌশলও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প হয়তো এই যুদ্ধের প্রভাব পুরোপুরি অনুমান করতে পারেননি। এখন তিনি বুঝতে পারছেন, ইরান সহজে ভেঙে পড়েনি। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে অর্থনীতি ও রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে।
তাই তার সামনে দুটি পথ রয়েছে—যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অথবা সমঝোতায় যাওয়া। ইতোমধ্যে তিনি ইরানের কিছু তেলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন, যা ২০১৯ সালের পর প্রথম।
ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি
ইরান এখন সহজে যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী নয়। তাদের ধারণা, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে আক্রমণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে।
ইরান এখন আগের মতো সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না—বরং সরাসরি আঘাত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ কমে আসছে এবং এই সময়টিকে ইরান সুযোগ হিসেবে দেখছে।
সম্ভাব্য সমাধান
ইরানের ভেতরে কিছু মধ্যপন্থী গোষ্ঠী মনে করে, এখনই আলোচনার সময়। যদি তারা ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালীতে বেশি প্রভাব নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে সমঝোতায় যেতে পারে।
অন্যথায় এই সংঘাত আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
