সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কা : ৪৯ ঘণ্টা পর নিখোঁজ মিরাজের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ থাকার ৪৯ ঘণ্টা পর মিরাজ ফকিরের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ এলাকার বুড়িগঙ্গা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় একজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি নৌযান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কেরানীগঞ্জের লবণ মিল সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদী এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন। বর্তমানে মরদেহটি রাজধানীর একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় হতাহত

এই দুর্ঘটনায় মিরাজ ফকিরের ছেলে সোহেল ফকির (২২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া সোহেলের স্ত্রী রুবা ফকির (২০) গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের একাধিক সদস্য এই দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আহত রুবা ফকিরের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

যেভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদরঘাটে যাত্রী ওঠানামার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা-ইলিশা রুটের একটি লঞ্চে যাত্রী ওঠানোর সময় পেছন থেকে আরেকটি লঞ্চ এসে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কার ফলে অপেক্ষমাণ লঞ্চে থাকা যাত্রীরা হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে যান। এতে কয়েকজন নদীতে পড়ে যান এবং একজন যাত্রী পিষ্ট হন। আহত রুবা ফকির পানিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

মামলা ও গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী মিরাজ ফকিরের বড় ভাই সিরাজ ফকির।

নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট দুটি লঞ্চের স্টাফ ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নৌযান নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই দুর্ঘটনার পর সদরঘাটে নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যাত্রী ওঠানামার সময় সমন্বয়ের অভাব ও নিয়ম না মানার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌবন্দর সদরঘাটে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী যাতায়াত করে। তাই এখানে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

উপসংহার

৪৯ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের জন্য শোকাবহ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, এই ঘটনা নৌপরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News