বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

ব্যাংক গ্যারান্টি সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ

সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে পড়তে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আর্থিক বাধা দূর করা। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও জার্মানির মতো উন্নত দেশে ভর্তি হলেও অনেক শিক্ষার্থী ব্যাংক সলভেন্সি বা গ্যারান্টির অভাবে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে মধ্যবিত্ত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ অনেকটাই সহজ হবে। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য কমবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দক্ষ কর্মী পাঠাতে ভাষা শিক্ষায় জোর

বৈঠকে বৈদেশিক শ্রমবাজার নিয়েও আলোচনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে পুনর্গঠনে বিপুল জনশক্তির চাহিদা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলতে পারে।

তবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভাষাগত দক্ষতার অভাবে অনেক বাংলাদেশি কর্মী তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ ও বেতন পান না। এজন্য সরকার জাপানি, জার্মানসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভাষা দক্ষতা বাড়লে বিদেশে কর্মসংস্থানের মান ও আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন উদ্যোগ

বর্তমানে ইউরোপের অনেক দেশের ভিসা আবেদন করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এই ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বাংলাদেশেই কনস্যুলার সেবা চালুর জন্য উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে কনস্যুলার সেবা চালু হলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং বিদেশে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আগ্রহ আরও বাড়বে।

জাপানে কর্মী পাঠানোর চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন

জাপানে এক লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক দ্রুত বাস্তবায়নের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

সার্বিকভাবে, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার মতো উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানিতে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

Source: Based on reporting from national media outlets

Next News Previous News