হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অতিরিক্ত ফি আরোপ, ট্রাম্পের কড়া সমালোচনায় সিনেটর
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা, ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা মার্কিন সিনেটরের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের বিশাল অঙ্কের টোল আরোপ এবং চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ক্রিস মারফি।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজের্দি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে জানান, কয়েক দশকের মধ্যে এটি এই অঞ্চলে ইরানের শক্তিশালী ‘সার্বভৌম কর্তৃত্বের’ প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, চলমান যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার মেটাতেই এই ট্রানজিট ফি আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিকে ‘উন্মাদনা’ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন অন্তত ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছে, অথচ যুদ্ধের আগে এই পথটি স্বাভাবিকভাবেই উন্মুক্ত ছিল।
মারফি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এই সংকটের সৃষ্টিকর্তা এবং এখন সেই সমস্যা সমাধানের নামে প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা ও আমেরিকানদের মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তিনি একে একটি ‘স্ব-আরোপিত সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে, ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় দেশটির জ্বালানি কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
তবে ইরান কোনো ধরনের আলোচনায় বসার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ক্ষতিপূরণসহ ৫ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হওয়ায় এই অচলাবস্থা বর্তমানে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার ও অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
