যে কারণে আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে চায় সরকার
বাংলাদেশের অর্থনীতি, আইএমএফ ঋণ এবং জ্বালানি ব্যয়ের চাপ—এই তিনটি বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাড়তি জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে সরকার আগ্রহী বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ তথ্য জানান।
জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি চাপ
অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে বিকল্প অর্থের উৎস খুঁজতে হচ্ছে সরকারকে।
তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে আইএমএফের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
আইএমএফ কিস্তি ছাড়ে অনিশ্চয়তা
আইএমএফের চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় অর্থছাড় নিয়েও কিছু অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে সংস্থাটির ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তির প্রায় ১৮৬ কোটি ডলার ছাড় হচ্ছে না। জুলাই মাসে পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে আইএমএফ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আইএমএফের কিস্তি বিলম্বিত হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়তে পারে। তবে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই অর্থছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংস্কার ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে জোর
বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকার ব্যয় সংকোচন, ব্যবসা সহজীকরণ এবং কাঠামোগত সংস্কারে জোর দিচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে এবং আসন্ন বাজেটে এসব উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শুধু ঋণ নয়, বরং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঈদে বাজার ও পরিবহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে দেশে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি। ফলে ঈদ মৌসুমে পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।
তিনি সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের প্রতি সংযম ও সহানুভূতিশীল আচরণের আহ্বান জানান, যাতে সংকটকালেও বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে আইএমএফ ঋণ স্বল্পমেয়াদে চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কাঠামোগত সংস্কার এবং সুশাসনের বিকল্প নেই।
সব মিলিয়ে, সরকার একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই দুই কৌশলের সফল সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিপথ
