পদ্মায় বাসডুবি : মাত্র ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন খাইরুল
দৌলতদিয়া বাস দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন খাইরুল ইসলাম খাঁ। তার ভাষায়, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্বাভাবিক যাত্রা পরিণত হয় মৃত্যুর মুখোমুখি অভিজ্ঞতায়। বুধবার পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তিনি ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী ও জীবিত উদ্ধার হওয়া একজন যাত্রী।
মুহূর্তেই বদলে যায় সব
খাইরুল জানান, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ একটি ঝাঁকুনি লাগে। এরপর কীভাবে তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যান, তা স্পষ্টভাবে মনে নেই। “মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল,” বলেন তিনি।
সাঁতরে কোনোভাবে নদীর পাড়ে উঠতে সক্ষম হন তিনি। তবে তীরে পৌঁছানোর পর আরেক বিপাকে পড়েন—এক উদ্ধারকারী তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়, যা আর ফিরে পাননি। তবুও নিজের বেঁচে ফেরাকেই বড় পাওয়া হিসেবে দেখছেন তিনি।
বাসের ভেতরের আতঙ্ক
খাইরুলের বর্ণনায়, বাসটির প্রায় সব আসনেই যাত্রী ছিল এবং অনেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। তার ধারণা, অন্তত ৪০ জন নারী ও শিশু বাসটির ভেতরে আটকা পড়ে যায় যখন সেটি নদীতে তলিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার আগে পাশের আসনের এক যাত্রী অল্প সময়ের জন্য নেমে গিয়ে আবার উঠে বসেন। ঠিক সেই সময়েই ঘটে বিপর্যয়। দুর্ঘটনার পর ওই যাত্রীর আর কোনো খোঁজ পাননি তিনি।
ব্যক্তিগত পটভূমি ও যাত্রার উদ্দেশ্য
খাইরুল ইসলাম পেশায় একটি টেক্সটাইল কারখানার মেশিনম্যান। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে আবার কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন। তার মতে, এটি ছিল একেবারেই স্বাভাবিক যাত্রা—যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রূপ নেয়।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী ছিলেন, যাদের অনেকেই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
এ ঘটনায় বাসচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থলে না থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান বলে জানা গেছে।
মানবিক বাস্তবতা ও সতর্কবার্তা
এই দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় ফেরিঘাট ও নদীপথে যাত্রী পরিবহনের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাট এলাকায় যানবাহন ওঠানামার সময় কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
উপসংহার
খাইরুল ইসলামের অভিজ্ঞতা একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার মানবিক দিক তুলে ধরে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে জীবন-মৃত্যুর সীমারেখা কতটা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, তারই বাস্তব উদাহরণ এই ঘটনা। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from Amar Desh
